দ্রুতই খুলবে আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ: বাণিজ্যে সম্ভাবনার হাতছানি

বাংলার সকাল ডেস্কবাংলার সকাল ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:০০ PM, ১১ জুন ২০২৩

দ্রুতই খুলবে আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ: বাণিজ্যে সম্ভাবনার হাতছানি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ। আন্তঃদেশীয় বাণিজ্যের দ্বার উন্মোচিত করার লক্ষ্যে যৌথভাবে প্রকল্পটি হাতে নেয় বাংলাদেশ-ভারত। আগামী জুলাই মাসে শেষ হচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত এ রেলপথের নির্মাণকাজ। জুলাইয়ের শেষে পরীক্ষামূলকভাবে এই পথে ট্রেন চলাচল শুরু হবে। এরপর দুই দেশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রেলপথ উদ্বোধনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে। উদ্বোধনের দিন থেকেই এ রেলপথে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হবে।

এই রেলপথটি চালু হলে আগরতলা-কলকাতার দূরত্ব কমবে ১ হাজার ৫০ কিলোমিটার। দুই দেশের মধ্যে রেলপথে বাণিজ্যের দ্বার খুলবে, কমবে পরিবহন খরচও। উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ চালু হবে।

দ্রুত চলছে রেলের কাজ

সম্প্রতি প্রকল্প পরিদর্শন গিয়ে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ সংযোগ প্রকল্পটি দুই দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ রেলপথ চালু হলে দুই দেশের জনগণই উপকৃত হবে। বাণিজ্য আরো প্রসারিত হবে।

মন্ত্রী বলেন, জুন মাসের মধ্যে এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। আপনারা জানেন, যে কোনো প্রজেক্টেরই এক বছর ডিফিকাল্ট লায়াবিলিটি থাকে। ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত এ প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারিত আছে। আশা করছি- চলতি বছরের জুনের মধ্যেই এ প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারব। এরপর এক বছর ‘ট্রায়াল রান’ হবে।

রেলমন্ত্রী আরো বলেন, যেহেতু এটি দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, তাই আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তফসিল ঘোষণা হলে বড় কোনো প্রকল্প উদ্বোধন করা যায় না। তাই সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এ প্রকল্প উদ্বোধন করা হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এ রেললাইন স্থাপনের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের নতুন ধারা সৃষ্টি হবে। ভারতীয়রা খুব কম সময়ের মধ্যে তাদের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারবে। আমাদের দেশ নানাভাবে সুবিধা পাবে।

আখাউড়া-আগরতলা রেলপথ

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আখাউড়া থেকে আগরতলার নিশ্চিন্তপুর পর্যন্ত ডুয়েল গেজ রেলপথ নির্মাণের জন্য ২০১৮ সালের ২১ মে ভারতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেক্সমেকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি হয়। দুই দেশের এই রেলপথের দৈর্ঘ্য ১২ দশমিক ২৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে বাংলাদেশ অংশে ৬ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার গঙ্গাসাগর রেলস্টেশনে এসে মিলিত হচ্ছে। বিদ্যমান রেললাইনের পূর্বপাশ দিয়ে সমান্তরালভাবে আখাউড়া জংশন স্টেশনে গিয়ে তা মিলিত হচ্ছে।

এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ৪৭৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৫৭ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং ভারতীয় ঋণ ৪২০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। প্রকল্পটি (বাংলাদেশ অংশ) বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২৪১ কোটি টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই প্রকল্পের কাজ শুরু করে।

প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আখাউড়ার গঙ্গাসাগর রেলস্টেশনের পাশে রেলপথের জন্য আনা পাথর, স্লিপার ও রেললাইন রাখা আছে। চলছে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন ভবনের নির্মাণকাজ। প্রকল্পের ১৬টি কালভার্টের কাজ প্রায় শেষ। গঙ্গাসাগর রেলস্টেশনের অদূরে মনিয়ন্দ অংশ এবং শিবনগরে জিরো লাইন অংশে রেললাইন বসানো হয়েছে।

এদিকে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আখাউড়া হয়ে ভারতের কলকাতা ও আগরতলা পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপনের পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ চালু হবে। ঢাকা হয়ে আগরতলা এবং কলকাতার মধ্যে ভ্রমণের সময় ও দূরত্ব কমিয়ে দেবে। এটি চালু হলে ৩১ ঘণ্টা পরিবর্তে সময় লাগবে ১০ ঘণ্টা এবং ১৬০০ কিলোমিটার থেকে দূরত্ব কমে হবে ৫৫০ কিলোমিটার।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণেও নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্ক ও উপ-আঞ্চলিক কানেকটিভিটির ক্ষেত্রেও নতুন করিডোর স্থাপিত হবে। ফলে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার হবে।

দ্রুত চলছে রেলের কাজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আজিজুল হক বলেন, পণ্যের দাম অনেকটাই পরিবহন খরচের ওপর নির্ভর করে। পরিবহন খরচ বেড়ে গেলে, স্বাভাবিকভাবেই পণ্যের দামও বাড়ে। আখাউড়া-আগরতলা রেলপথটি চালু হলে ট্রেনে পণ্য পরিবহন খরচ অনেক কম হবে। এতে করে আমদানিকৃত পণ্য দেশের বাজারে কম দামে সরবরাহ করা যাবে।

টেক্সমেকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের কান্ট্রি হেড শরৎ শর্মা বলেন, করোনার কারণে আমাদের দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। প্রকল্পের কাজের মালামালও ভারত থেকে আনা যায়নি। পরবর্তীতে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও মালামাল আনার অনুমতি পেতে বিলম্ব হয়েছে। তবে এখন এ প্রকল্পের সকল অনিশ্চয়তা কেটে গেছে। আমাদের এখন শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে।

আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েল গেজ রেলপথ প্রকল্পের পরিচালক মো. আবু জাফর বলেন, রেলপথ নির্মাণের কাজ শেষের পথে। বাংলাদেশ অংশে মাত্র এক কিলোমিটার রেললাইন বসানোসহ আনুষঙ্গিক কিছু কাজ বাকি রয়েছে। আশা করা হচ্ছে জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ এ পথ দিয়ে পরীক্ষামূলক ট্রেন চালানো যাবে।

আপনার মতামত লিখুন :